শুক্রবার   ২৫ জুন ২০২১   আষাঢ় ১২ ১৪২৮   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪২

কোরিওগ্রাফি কাজটা উপভোগ করি

রাজীব এইচ হৃদয়

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০১৯  

জীবনে একজন সফল কোরিওগ্রাফার  হতে হলে অনেক চড়াই উৎরাই পারি দিতে হয়।  সেই সাথে এজন্য প্রয়োজন পরিশ্রম, মেধা ও ধৈর্য্যের সংমিশ্রণ। নাচ জগতের স্বপ্নরাজ তরুণ  কোরিওগ্রাফার বাধন হোসেন লিজন এমন মন্তব্য করেই মুখোমুখি হয় স্টার ভয়েজ২৪ এর সাথে।

 

স্টার ভয়েজ: আপনি তো দীর্ঘদিন ধরেই নাচ অঙ্গনে কাজ করে যাচ্ছেন,

শুরুর গল্পটা জানতে চাই…

 

লিজন: আমার ক্যারিয়ার শুরু হয় ড্যান্স দিয়েই।

কোরিওগ্রাফার হতে হলে অবশ্যই একাডেমী থেকে আসতে হয়।

২০০৭ সালের দিকে প্রথমে কোরিওগ্রাফার  সাদ্দাম হোসেন ভাইয়ের কাছে এস এ ড্যান্স একাডেমি তে শুরু করি।  একাডেমী'টা  ছিল বাড্ডা-রামপুরা  এলাকায়। তখন আমি সবেমাত্র স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছি। একাডেমীতে অনেক ছেলেমেয়েই একসঙ্গে ছিলাম। তাদের অনেকেই এখন বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। সেই সময় ঢাকায় নাচ ব্যাপারটি ছিল খুবই জনপ্রিয়।  টিনএজ ছেলেমেয়েদের মধ্যে নাচ করা তখন ছিল ড্রিম।

 

স্টার ভয়েজ: এরপর  কোরিওগ্রাফার হিসেবে কিভাবে কাজ শুরু করলেন?

 

লিজন: বিভিন্ন কারণেই আমি হঠাৎ এ জগৎ থেকে দূরে সরে যাই। আবার ফিরেও আসি । এসেই আমি ও আমার এক বন্ধু মিলে একটি  মডেলিং স্কুল খুলি , জিনিয়াস ড্যান্স কোম্পানি  ।

 

স্টার ভয়েজ:  বর্তমানের বিভিন্ন যে সকল ড্যান্স পোগ্রাম গুলো হচ্ছে  সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?

 

লিজন : এখন নাচ বা নাচের পোগ্রাম  বিভিন্নভাবেই ছড়িয়ে গেছে।  আগেও বিনোদনের মাধ্যমেই পোগ্রাম  হতো। থার্টি ফার্স্ট নাইট, পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন, ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান  টিকিট বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব অনুষ্ঠান করে থাকতো। এখন অফিসিয়াল বা আনুষ্ঠানিকতার জন্যই করে থাকে। 

 

স্টার ভয়েজ: নাচ তো  আমরা স্টেজে দেখি,

কিন্তু স্টেজের পেছনের গল্পটা দেখা হয় না। পেছনের গল্প জানতে চাই …

 

 

লিজন: একটি নাচের পোগ্রাম দর্শকের সামনে হাজির হওয়ার আগে অনেকগুলো ধাপ পার হয়ে আসতে হয়।

 পুরো দায়িত্বটা একজন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে দিয়ে দেয়।

এবার কিভাবে পোগ্রামটি পরিচালনা করবে তার একটি পরিকল্পনা করে সে হাউজে জমা দেন।

স্পন্সর কারা থাকবেন, কোরিওগ্রাফার কে থাকবেন,

কোন কোন ডিজাইনারের ড্রেস থাকবে এগুলো একজন আয়োজকের কাজ।

কোরিওগ্রাফারের কাজ হচ্ছে,  মেক-আপ আর্টিস্ট কে থাকবেন, কি ধরনের মিউজিক  সেটটা কেমন হবে। এছাড়া অনুষ্ঠানটির থিম কি হবে এগুলোও একজন কোরিওগ্রাফারের কাজের অংশ।

রিহার্সাল পর্বও থাকে। আবার পোগ্রাম এর আগে এসে মডেলরা অন স্টেজ রিহার্সালও করে থাকেন।

এরপর নির্ধারিত সময়ে দর্শকরা সেই অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

 

স্টার ভয়েজ: আপনি এই কোরিওগ্রাফির বাইরেও কি কোন কাজের সাথে জড়িত আছেন?  আর এই কাজটাকেই বা কেন বেছে নিলেন?

 

লিজন:  আমি মূল প্রফেশন হিসেবে নিয়েছি কোরিওগ্রাফিটাকে ।

 এখন কোরিওগ্রাফি নিয়েই চিন্তা করছি, চলছি এবং ভাবছি। আমি একসময় চাকরি করতাম। আমি একটু স্বাধীনচেতা টাইপের । চাকরি করলে বিভিন্নভাবে টাইম মেইনটেইন করতে হয়।

অনেক জনের কথামত চলতে হয়। কোনো স্বাধীনতা থাকে না। আমি খুব ফিল করতাম যে, আমার এমন একটি কাজ দরকার, যেটি আমার মত করে এবং আমার ইচ্ছে মত করতে পারবো। এরপর আমার মনে হলো যে, কোরিওগ্রাফিটা এমনই একটি  কাজ যেখানে একেবারে নিজের মত করে কাজ করা যায়। আমি আমাকে কিভাবে হাইলাইট করবো, কিভাবে প্রেজেন্টেশন দিব, কোন কাজটি করবো, কোন কাজটি করবোনা এখানে আমার পুরো স্বাধীনতা আছে। আর সব চাইতে বড় কথা -আমি এই কাজটাকে খুব প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি।

 

 

স্টার ভয়েজ: ব্যাঙ্গের ছাতার মতো অসংখ্য কোরিওগ্রাফার বৃদ্ধি  পাচ্ছে। এ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

 

লিজন: কিছু অসাধু এবং সুযোগ সন্ধানী লোক  এসে প্রকৃত কোরিওগ্রাফারদের  ক্ষেত্রগুলোকে কলুষিত করছে। এতে নতুন যারা আসছে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।  আবার পুরনো যারা আছেন তারাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য এই জগৎ কে ব্যবহার করছে।

 

স্টার ভয়েজ:আপনি নাচের সাথে জড়িত আছেন অনেক দিন হলো, এক্ষেত্রে আপনার সামাজিক কোনো বাধা বা কোন কিছু নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে কি?

 

লিজন: বর্তমানে আমাদের সমাজের মানুষের মানসিকতা অনেকটা বড় হয়েছে তাই বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই। বরং আমার গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে। নাচে এক সময়ে আমার পরিবার থেকে বাঁধা ছিল। আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। মধ্যবিত্ত পরিবার মিডিয়াতে কাজ করাকে ভাল চোখে দেখে না।

আগে তাদের অনেক খারাপ ধারনা ছিল। এখন কাছ থেকে দেখে তারা বুঝে যে, নাচ আসলে একটি  কাজ। আমার পরিবার, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব সবাই গর্ববোধ করে যে, আমি মিডিয়ায় কাজ করি এবং একজন ভালো  কোরিওগ্রাফার।

 ভালো কিছু করার চেষ্টা করেছি । 

 

স্টার ভয়েজ: নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

 

লিজন: নাচ ও একটি কাজ- প্রত্যেকটি কাজকে সম্মান দেখাতে হবে। কাজের প্রতি সিরিয়াস হতে হবে।  কাজকে সম্মান দেখাতে না পারলে কাজ তার রিটার্ন  দেবেনা।

স্টার ভয়েস ২৪
স্টার ভয়েস ২৪
এই বিভাগের আরো খবর