রোববার   ২৪ অক্টোবর ২০২১   কার্তিক ৯ ১৪২৮   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করতে চান রিপন মিয়া

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

রিপন মিয়া পেশায় একজন ব্যবসায়ী, পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনার সাথে জড়িত। সাক্ষাৎকারের প্রথমেই তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা সুন্দর একটি পতাকা পেতাম না, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে গর্ববোধ করতে পারতাম না। আজ সেই বঙ্গবন্ধুর যোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদর্শীতার নেতৃত্বে আমাদের দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করতে যাচ্ছেন এবং দেশের জনগণের উন্নয়নের জন্য সর্বদা সর্বক্ষেত্রে সহযোগীতা করে অনন্য মানবতার গুণে বিশ্ববাসীর কাছ থেকে “মাদার অফ হিউম্যানিটি” খেতাব অর্জন করেছেন। যা সকল বাংলাদেশীদের জন্য গর্বের বিষয়।

সুদীর্ঘ ২৫ বছর পর জনাব রিপন মিয়া আবেগে আপ্লুত হয়ে বার বার মনে মনে ভেবেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। কিন্তু কেন? প্রশ্ন থেকেই যায়।  এক সাক্ষাতকারে তিনি মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। রিপন মিয়া জন্মগ্রহণ করেছেন গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার রাজেন্দ্রপুর গ্রামে। বাবা মৃত আব্দুল হালিম চৌধুরী।

 তিনি বলেন ১৯৯৫ সালে ঢাকার প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়। নির্বাচনে রাজধানীর খিলক্ষেত রেলগেইট সংলগ্ন আওয়ামীলীগের পদপ্রার্থী ডা. জিন্নাত আলীর পক্ষে নির্বাচনীয় প্রচারণার জনসভায় উপস্থিত ছিলেন আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সহ অনেক নেতাকর্মী। জনসভায় জনাব জিল্লুর রহমান এর বক্তব্য চলাকালীন হঠাৎ বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী রফিকুল ইসলাম রফিকের লোকজন ও সন্ত্রাস বাহিনীরা অতর্কিতভাবে সভা মঞ্চে আক্রমন শুরু করে।

সন্ত্রাসীরা সে সময়ে রেল লাইনের পাথর তুলে মঞ্চ লক্ষ্য করে মেঘের মতো ছুঁড়তে থাকে এবং জনসভায় থাকা চেয়ারগুলো দিয়ে মানুষজনকে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। আমি তখন মঞ্চের বাইরে সামনে ডানপাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। মঞ্চে তাকিয়ে দেখি বঙ্গবন্ধু কন্যা একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন। অবস্থা বেগতিক দেখে ভয়ে আতঙ্কে নেত্রীকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে ইশারা করি। কিন্তু তিনি নামছিলেন না। উপায়ন্তর না দেখে নেত্রীকে রক্ষা করার জন্য আমি নিজেই তখন এক লাফে মঞ্চের উপর উঠে গিয়ে নেত্রীর দুই ফুট দূরত্বে দুই হাত প্রসারিত করে দেয়াল হয়ে দাড়িয়ে থাকি। নেত্রীকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের ছুঁড়ে মারা ঢিল, পাথর, ইট, পাটকেল আমার বুকে এসে পড়তে থাকে। আবারও নেত্রীর দিকে তাকিয়ে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার জন্য ইশারা করলাম। তিনি কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন আমার দিকে। আমি নিজেও তখন বুকে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে পিঠ পেতে দিই। ওই সময়ে ছুঁড়ে মারা পাথরে আবার পায়ে আঘাত পাই। তারপরেও পা ছেচড়িয়ে ছেচড়িয়ে নেত্রীর কাছে গিয়ে বলতে লাগলাম, আপা আপনি নেমে যান। ওই সময়ে আরও একটি ছুঁড়ে মারা পাথরের আঘাতে ছিটকে গিয়ে আমি নেত্রীর সাথে ধাক্কা খাই। আমি ওনাকে রক্ষা করতে দুই হাত দিয়ে ধরে মঞ্চ থেকে নিচের দিকে নামতে সাহায্য করি। মঞ্চ থেকে নামতে নামতে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ছেলেটাকে রক্ষা করো। তখন পেছন থেকে লোকজন এসে নেত্রীকে নিয়ে গাড়িতে উঠে চলে যান।

প্রশ্নঃ সে সময় আপনার বয়স কত ছিলো?
উত্তরঃ ২১ বছর।প্রশ্নঃ কী কাজ করতেন?
উত্তরঃ শহীদ তিতুমীর কলেজে পড়াশোনা করতাম।
প্রশ্নঃ ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ, কলেজের ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম।
প্রশ্নঃ সেদিন কী মনে করে এত ঝুঁকি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অর্থাৎ সেসময়ের বিরোধী দলীয় নেত্রীকে কেন বাঁচাতে গেলেন?
উত্তরঃ আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করি, আমার চোখের সামনে মহান নেতার কন্যাকে আক্রমন করবে রাজাকারের দল আমি নীরবে সহ্য করবো তা কী করে হয়!
প্রশ্নঃ সেদিন আপনি মারাও যেতে পারতেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ, সেদিন যদি ওরা গুলিবর্ষণও করতো তাহলে আগে আমার বুক ছিদ্র হতো। তাতেও আমার কোনও দুঃখ থাকতো না, আমি বঙ্গবন্ধু কন্যাকে বাঁচাতে জীবন দিতেও রাজী আছি।
প্রশ্নঃ এত দিন পর কেন মনে পড়লো সেদিনের কথা?
উত্তরঃ আমি কিছু পাওয়ার জন্য কোনও দিন কারও উপকার করি না। শুধু আমার দুই মেয়ে বার বার আমাকে বলেছে দেখা করার জন্য। তাই তাদের অনুপ্রেরণায় আমি রাজী হলাম।
প্রশ্নঃ সাক্ষাত হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কী বলবেন?
উত্তরঃ বলার কিছুই নেই। শুধু জানতে চাইবো সেদিনের কথা আপার মনে আছে কিনা?
প্রশ্নঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করার জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
উত্তরঃ ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি চিঠি পাঠিয়েছি। তিনি যদি সদয় হন তাহলে আমাকে ডাকতেও পারেন!
প্রশ্নঃ আর যদি না ডাকেন?
উত্তরঃ আমার কোনও দুঃখ নেই।
প্রশ্নঃ কেন?
উত্তরঃ কেন আবার! তিনি ব্যস্ত মানুষ, সেটাও আমাকে বুঝতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশরতœ মমতাময়ী মা, আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি তিনি অবশ্যই আমাকে সাক্ষাত করার সুযোগ দিবেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কেন যেন ১৯৯৫ সালের সেই দিনের কথা বার বার মনে পড়ছে। তাই মনে মনে ইচ্ছে পোষণ করেছি সরাসরি তাঁর সাথে সাক্ষাত করে মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করবো।

স্টার ভয়েস ২৪
স্টার ভয়েস ২৪
এই বিভাগের আরো খবর